বাংলার তাজমহল | Banglar Taj Mahal 15/01/2022


PC:


বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি হিসাবে আমরা জানি আগ্রার তাজমহল। নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার আরব গ্রামে বাংলার তাজমহল (Banglar Taj Mahal) অসাধারণ স্থাপত্যের সাথে বিশ্বে দ্বিতীয়। বাংলার তাজমহল আগ্রার তাজমহলের ভিত্তিতে ভাস্কর্যযুক্ত। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩৩ কিলোমিটার। তাজমহলটি নির্মাণ করেছিলেন আহসান উল্লাহ মনি। তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জের শিল্পপতি চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাজমহলের গঠন আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৩ সালে শুরু হয়েছিল এবং এটি ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

 

এই জায়গাটি এক কথায় একটি সৌন্দর্য্যে ভরপুর। তাজমহলের প্রাথমিক ভবনটি স্বচ্ছ এবং সূক্ষ্ম নুড়ি পরিহিত। চারটি ক্লোজেটে আপনি চারটি বড় মিনার দেখতে পাবেন। বাংলার তাজমহলের অভ্যন্তরে আহসান উল্লাহ মনি এবং তার স্ত্রী রাজিয়ার কবরের স্থান সংরক্ষণ করা আছে। আদর্শ মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্মাণ, সম্পূর্ণ টাইলস। আর ভবনের সামনে রয়েছে পানির ফোয়ারা, ফুলের বাগান এবং দর্শনার্থীদের বসার স্থান।

 

বাংলার তাজমহলে আছে রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও এবং রাজমনি ফিল্ম সিটি রেস্তোরাঁ, যেখানে যেকোন দর্শনার্থী চাইলে ছবি তুলতে পারেন। বাংলার তাজমহলের কাছেই নির্মাণ করা হয়েছে মিসরের পিরামিডের প্রতিরূপ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য, ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ভাস্কর্য, ২৫০ আসনবিশিষ্ট সিনেমা হল এবং সেমিনার কক্ষ। এছাড়াও তাজমহলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী, জামদানি শাড়ি, মাটির গহনাসহ আরও বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর দোকান।

 

বাংলার তাজমহল প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তাজমহল এবং পিরামিডের প্রবেশ মূল্য একসাথে পরিশোধ করতে হয়, শুধুমাত্র তাজমহল বা পিরামিড দেখার সুযোগ নেই। জনপ্রতি প্রবেশ টিকেটের মূল্য ১৫০ টাকা।

  

 

কিভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে বাংলার তাজমহলের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যাওয়া কুমিল্লা, দাউদকান্দি অথবা সোনারগাঁগামী বাসে চড়ে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে সেখান থেকে সিএনজি বা অটোরিক্সায় জনপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা ভাড়ায় তাজমহল দেখতে যাওয়া যায়। ৩০০ ফিট রাস্তা দিয়ে ভুলতা এসে, সেখান থেকে ৮০ থেকে ১০০ টাকা ভাড়ায় অটোরিক্সা রিজার্ভ নিয়ে তাজমহল যাওয়া যায়। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ভৈরব, নরসিংদী কিংবা কিশোরগঞ্জগামী বাসে বরপা বাসস্ট্যান্ডে নামে সিএনজিতে করে বাংলার তাজমহল দেখতে যেতে পারবেন। 

 

কোথায় থাকবেন?

ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলো দেখে সন্ধ্যার মধ্যে পূনরায় ঢাকায় ফিরে আসা সম্ভব। তবে রাত্রিযাপনের প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ শহরের হোটেল মেহরান, হোটেল সোনালি, হোটেল নারায়ণগঞ্জ, হোটেল সুগন্ধা, হোটেল সুরমা ও হোটেল রুপায়ন ইত্যাদিকে বেছে নিতে পারেন।

 

কোথায় খাবেন?

নারায়নগঞ্জ শহরে রেলগেট এলাকায় বেশ কিছু খাবারের হোটেল আছে। নারায়ণগঞ্জ শহরে মনির রেস্তোরা, নিরিবিলি রেস্টুরেন্ট, শাহী রেস্টুরেন্ট, নিউ ঘরোয়া, খাবার ঘর ও বিভিন্ন বিরিয়ানি হাউজের মতো স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

You might like

Get the mobile app!

Our app has all your booking needs covered: Secure payment channels, easy 4-step booking process, and sleek user designs. What more could you ask for?