কেওক্রাডং (Keokradong) 10/04/2021


PC:


PC : Shamim

প্রকৃতি কন্যা বান্দরবান পাহাড়শ্রেণী ট্রেকারদের জন্য এক স্বর্গ। সব উঁচু উঁচু পাহাড় চূড়া এ অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে। কেওক্রাডং পাহাড় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। প্রায় ৩১৭২ ফুট উঁচু বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা বান্দরবানে অবস্থিত। এক সময় এটিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ধরা হত। তবে আধুনিক গবেষণায় এই তথ্য ভুল বলে পাওয়া যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল সাকা হাফং।

 

এর অপার্থিব সৌন্দর্য আপনাকে বিমুগ্ধ করবে। দূর থেকে কেওক্রাডং এর চূড়া শূন্যে মিলিয়ে আছে বলে মনে হয় কিন্তু চূড়ায় উঠলে পাহাড় আর মেঘের মিতালী আপনাকে সম্মোহিত করবে এক মায়াবী আকর্ষণে। বৃষ্টি, বাতাস আর মেঘ সবসময় দখল করে নেয় চূড়ার আশপাশ। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সবুজের ঘোর লাগানো সৌন্দর্য, ঝর্ণাধারা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর মেঘ পাহাড়ের লুকোচুরি খেলা। এ যেন পৃথিবীর বুকে এক টুকরো সবুজ স্বর্গ। 

 

কিভাবে যাবেন?

বান্দরবান শহর থেকে কেওক্রাডং যেতে হলে প্রথমে যেতে হবে রুমা বাজার। তারপর রুমা বাজার থেকে বগালেক  হয়ে কেওক্রাডং। একদিনে বান্দরবান থেকে কেওক্রাডং পৌঁছানো একটু কষ্টকর হয়ে যাবে। সাধারণত পর্যটকগন প্রথমদিন বগালেকে এক রাত থেকে তার পরদিন সকালে কেওক্রাডং ভ্রমণে যায়। বগালেক দেখা ও সেখানে থাকা আপনার কেওক্রাডং ভ্রমণ আরও সুখময় করে তুলবে।

বান্দরবান থেকে রুমা বাজার এর দূরত্ব ৪৮ কিলোমিটার। লোকাল বাস কিংবা চাঁন্দের গাড়ি/জীপে করে রুমা বাজার যাওয়া যায়। বাসে যেতে হলে বান্দরবানের রুমা বাস স্ট্যান্ডে যেতে হবে। সেখান থেকে ১ ঘন্টা পর পর বাস রুমার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। জনপ্রতি ভাড়া ১২০ টাকা, সময় লাগবে ৩ ঘন্টার মত। দলগত ভাবে গেলে রুমা বাজার যেতে পারেন জীপ/চান্দের গাড়িতে করে। এক গাড়ীতে ১০-১৫ যাওয়া যায়। বান্দরবান শহরের জীপ স্টেশন থেকে ৩০০০-৪০০০ টাকা ভাড়ায় গাড়ি নিতে হবে। জীপে করে গেলে সময় লাগবে ২ ঘন্টার মত।

 

কেওক্রাডং থাকা ও খাওয়া ব্যবস্থা

কেওক্রাডং যদি রাত কাটাতে চান তাহলে কেওক্রাডং এর চূড়ার কাছেই আদিবাসী কটেজ আছে। গাইডের মাধ্যমে আগে থেকেই কথা বলে রাখতে পারেন অথবা গিয়ে সেখানে কথা বলে থাকতে পারবেন। এক রুমের কটেজে কয়েকজন থাকতে হবে। জনপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা ভাড়া। খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা আদিবাসী ঘরেই করতে হবে। সাধারণত ১০০-২০০ টাকার খাবার প্যাকেজ পাওয়া যায়। ভাত, ডিম, আলুভর্তা, পাহাড়ি মুরগি দিয়েই হয় খাবারের আয়োজন। এই জন্যে আগে থেকেই বলে রাখতে হবে কি খাবেন ও কত জন খাবেন। পৌঁছেই খাবার খেতে চাইলে যাবার সময়ই গাইডের সাহায্যে বলে রাখতে পারবেন।

You might like